ইসলামি জীবনদর্শনে দোয়াকে ইবাদতের মূল ও মুমিনের হাতিয়ার বলা হয়েছে। ভাগ্য পরিবর্তন ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনার কোনো বিকল্প নেই। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো।” (সূরা মুমিন, আয়াত: ৬০)।
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ কিছু সময় রয়েছে যখন দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। নিচে এমন ৩টি সময়ের কথা তুলে ধরা হলো—
১. শেষরাতের দোয়া
প্রতিটি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ দোয়ার জন্য সবচেয়ে বরকতময় সময়। সহিহ বুখারির হাদিস অনুযায়ী, এই সময়ে মহান আল্লাহ দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন— “কে আছো এমন যে আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দেবো? কে আছো যে আমার কাছে কিছু চাইবে, আমি তাকে তা দান করবো? কে আছো ক্ষমা প্রার্থনাকারী, আমি তাকে ক্ষমা করে দেবো?”
২. আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়
আজান শেষ হওয়ার পর থেকে জামাত শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আজান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দোয়া কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।” (সুনান আবু দাউদ)। তাই এই মূল্যবান সময়ে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ চেয়ে প্রার্থনা করা উচিত।
৩. ফরজ নামাজের পর দোয়া
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায়ের পর দোয়া কবুলের বিশেষ সুযোগ থাকে। একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, “কোন সময়ের দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়?” তিনি জবাবে বলেছিলেন, “শেষ রাতের দোয়া এবং ফরজ নামাজের পরের দোয়া।” (সুনান আত তিরমিজি)।
পরিশেষে, দোয়া কবুলের জন্য কেবল সঠিক সময় নয়, বরং হালাল উপার্জন এবং একাগ্রচিত্তে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখাও জরুরি।
Media News BD medianewsbd.site