কত দিনের বা’ চ্চা ন ‘ষ্ট করলে গু’ না ‘হ হয় না, ইসলাম যা বলছে

মহান আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন পৃথিবীর সবকিছু। সৃষ্টি করেছেন মানবজাতি, গ্রহ-উপগ্রহ, চন্দ্র-সূর্য সব। মানুষ আল্লাহর এক অপরূপ সৃষ্টি। আল্লাহ সবচেয়ে সুন্দর অবয়বে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। কতটা সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন, কিভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেটাও আল্লাহ কোরআনে বলেছেন।

জান্নাতে আল্লাহর পাশে ঘর চেয়েছেন যে নারী

আল্লাহ বলেন, ‘আমি মানুষকে মাটির সারাংশ থেকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে এক সংরক্ষিত আধারে (জরায়ুতে) স্থাপন করেছি। এরপর শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তরূপে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর জমাট রক্তকে গোশতপিণ্ডে পরিণত করেছি, এরপর গোশতপিণ্ড থেকে অস্থি সৃষ্টি করেছি, অতঃপর অস্থিকে গোশত দ্বারা আবৃত করেছি, অবশেষে তাকে নতুনরূপে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা: মুমিনুন, আয়াত: ১২-১৪)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,

‘এক নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, অতঃপর আমি একে গঠন করেছি পরিমিতভাবে, আমি কত সুনিপুণ স্রষ্টা।’ (সুরা: মুরসালাত, আয়াত: ২২-২৩)।

শেষ নবী মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ সা.ও মাতৃগর্ভে মানবশিশু জন্মের স্তর সম্পর্কে এভাবে বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান আপন মাতৃগর্ভে বীর্যের আকারে ৪০ দিন, জমাট বাঁধা রক্তে পরিণত হয়ে ৪০ দিন, গোশত আকারে ৪০ দিন। এরপর আল্লাহ একজন ফেরেশতাকে পাঠান এবং চারটি বিষয়ে আদেশ দেন যে, তার (শিশুর) আমল, রিজিক, আয়ুষ্কাল ও ভালো না মন্দ সব লিপিবদ্ধ করো। অতঃপর তার মধ্যে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়।’ (বোখারি, হাদিস ২৯৬৮)।

নবীজি আরও বলেন,

‘আল্লাহ মাতৃগর্ভে একজন ফেরেশতা মোতায়েন করেন। ফেরেশতা বলেন, হে রব! এখনও তো ভ্রূণ মাত্র। হে রব! এখন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়েছে। হে রব! এবার গোশতের টুকরায় পরিণত হয়েছে। আল্লাহ যদি তাকে সৃষ্টি করতে চান, তখন ফেরেশতা বলেন, হে আমার রব! (সন্তানটি) ছেলে না মেয়ে হবে, পাপী না নেককার, রিজক কী পরিমাণ ও আয়ুষ্কাল কত হবে? অতএব, এভাবে তার তকদির মাতৃগর্ভে লিপিবদ্ধ করে দেয়া হয়।’ (বোখারি, হাদিস ৩০৮৭)।

মাতৃগর্ভ থেকে মানুষের বেড়ে ওঠা শুরু হয়। বর্তমানে মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন উপায়ে গর্ভপাত ঘটিয় থাকে। এটাকে এবোরশন বলে (Abortion) বলে।

এটি জন্মনিয়ন্ত্রণের বহু পুরানো একটি পদ্ধতি। কোনো শরিয়াহ অনুমোদিত কারণ ছাড়া এ পদ্ধতি নাজায়েজ। তবে যদি নারী অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয়। গর্ভধারণের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভপাতের অবকাশ আছে। তবে মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে কোনোভাবেই বৈধ হবেনা।

বর্তমান সমাজে গর্ভপাত বা ভ্রুণহত্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছে অসংখ্য তরুণী! কিছু নষ্ট চরিত্রের ফসল। কেউ আবার দারিদ্র্যের ভয়ে। আবার কেউ করে সমাজের ভয়ে। এখন সামাজিক মহামারির আকার ধারণ করেছে এবোরশন।

শুধু হাদিস-কোরআনই নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, ভ্রুণের বয়স যখন তেতাল্লিশ দিনের কম হয় তখন ভ্রুণ একটি রক্তপিন্ড হিসেবে মায়ের গর্ভে অবস্থান করে। তখনও তার কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দৃশ্যমান হয় না।

এ অবস্থায় ভ্রুনটি মানুষের শরীরের একটা অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। আর মানুষের প্রতিটি অঙ্গের মালিক স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো এটিও নষ্ট করা নাজায়েজ। তবে যদি স্তন্যদানকারিনী গর্ভবতী হয়, দুধ বন্ধ হওয়া, দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রাণ নাশের আশঙ্কা হয়, গর্ভের বীর্য শুধু জমাট রক্ত কিংবা গোশতের টুকরা আকারে থাকে, কোনো অঙ্গ দৃশ্যমান না হয় তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো জায়েজ আছে। (ফতওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৪১০)।

ভ্রুণের বয়স যখন তেতাল্লিশ দিন হয়ে যায়, তখন থেকে তার প্রয়োজনীয় অরগ্যান, যেমন ফুসফুস, নাক, হাত ও বিশেষ কিছু হাড় ইত্যাদি প্রস্তুত হওয়া শুরু হয়। অতএব তখন থেকে শুরু করে চার মাস পর্যন্ত গর্ভপাতের মাধ্যমে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় ভ্রুণটি নষ্ট করে ফেলা মাকরুহে তাহরিমি। (আদ্দুররুল মুখতার: ১০/২৫৪)।

ভ্রুণের বয়স যখন ১২০ বা চার মাস হয়ে যায়, তখন আল্লাহ তাআলা তার মধ্যে রুহ দান করেন। আর রুহ আসার পর বাচ্চা নষ্ট করা কোনো মানুষকে হত্যা করার শামিল। তাই এ সময় ভ্রুণহত্যা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। (ফতহুল আলিয়্যিল মালিক খ. ১/৩৯৯)।

আধুনিক যুগে ভ্রুণহত্যা জাহেলি যুগে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত সমাধিস্থ করার নামান্তর। তখন বাবা নিজ মেয়েকে গর্তে পুঁতে ফেলত; আর এখন আধুনিক যন্ত্রপাতি দ্বারা মায়ের পেটেই শিশুকে মেরে ফেলা হয়। এ দুই হত্যার মধ্যে কোনো তফাত নেই।

এজন্য রাসুলুল্লাহ সা. ভ্রুণহত্যাকে ‘গুপ্তহত্যা’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘স্মরণ কর ওই দিনকে, যেদিন জীবন্ত সমাধিস্থ নিষ্পাপ বাচ্চাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তোমাকে কোন অপরাধের কারণে হত্যা করা হয়েছে?’ (সুরা: তাকভির ৮)।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন,

‘যে একটি জীবনকে হত্যা করা থেকে বিরত থেকেছে, সে যেন সব মানুষের জীবনকে হত্যা করা থেকে বিরত থেকেছে; আর যে একটি আত্মাকে হত্যা করেছে, সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করেছে।’ (সুরা: মায়েদা ৩০)।

অনেকে মনে করেন, আগত শিশুকে লালনপালন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এই ভয়ে ভ্রুণ মেরে ফেলেন। এ কাজটি নিতান্তই নিন্দনীয় ও বোকামি। কেননা যিনি তার বান্দাকে এত যত্ন করে সৃষ্টি করেছেন, তিনি তার রিজিকেরও ব্যবস্থা করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানকে দারিদ্র্যের ভয়ে হত্যা করো না। আমি তোমাকে ও তোমার সন্তানকে দেখেশুনে রাখি। তাই তাদের হত্যা করা সত্যিকার অর্থেই একটি মহাপাপ।’ (সুরা: ইসরা ৩২)।

জন্মনিয়ন্ত্রণের হুকুম প্রয়োজন অনুপাতে নির্ধারিত হয়। আর পদ্ধতিতেও ভিন্নতা রয়েছে। সকল ক্ষেত্র ও সকল পদ্ধতির হুকুম এক নয়।

মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে। ১. জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ২. অস্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না যেমন: কনডম ব্যবহার, পিল সেবন, জন্মনিরোধ জেল ব্যবহার ইত্যাদি। ৩. গর্ভধারনের পর গর্ভপাত ঘটানো।

প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এক্ষেত্রেও কখনও কোনো কোন অভিজ্ঞ দীনদার ডাক্তারের বক্তব্যমতে গর্ভধারণের কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা হলে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা বৈধ হবে।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে। ১. দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।

২. কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে। ৩. মহিলা অসুস্থ ও দুর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হলে। তবে ভালোভাবে মনে রাখা দরকার যে, এ সব ক্ষেত্রে বৈধতা শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিতভাবে মানুষের কাছে প্রচার করা ও এতে উদ্বুদ্ধ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

আর তৃতীয় পদ্ধতিও নাজায়েজ। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দুর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় আর গর্ভধারনের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। আর মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে বৈধ নয়। (মুসলিম ২/৩১৯, জাদিদ ফিকহি মাবাহেস ১/২৮২)