স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হলো ভালোবাসা, বিশ্বাস, পবিত্রতা ও পারস্পরিক সম্মানের সম্পর্ক। অনেক সময় সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন কথা ছড়ানো হয়, যেমন— “স্ত্রী তিনটি জায়গায় উ’ ল ‘ঙ্গ হলেও গুনাহ নেই”।
এই বিষয়টি সঠিকভাবে বুঝতে হলে ইসলামের মূলনীতি জানা জরুরি।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর জন্য বৈধ উন্মুক্ততা
স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে পরস্পরের জন্য শরীর বৈধ। অর্থাৎ তারা একে অপরের সামনে সম্পূর্ণ উ*ল*ঙ্গ হতে পারে। এতে কোনো গুনাহ নেই।
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
> “তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।”
— সূরা আল-বাকারা: ১৮৭
এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের নিকটতম ও নিরাপদ সম্পর্ক।
স্ত্রী যে তিনটি স্থানে উ*ল*ঙ্গ থাকতে পারে (স্বামীর সামনে)
১. শয়নকক্ষ বা ব্যক্তিগত কক্ষ
স্বামীর সঙ্গে নির্জনে নিজের ঘরে স্ত্রী উ*ল*ঙ্গ থাকলে এতে কোনো গুনাহ নেই। বরং বৈবাহিক সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ।
২. গোসলখানা বা বাথরুমে
স্বামীর উপস্থিতিতে বা স্বামীর জন্য প্রস্তুতির সময় গোসলখানায় উ*ল*ঙ্গ হওয়াও বৈধ, যদি তা পর্দার সীমার মধ্যে হয় এবং অন্য কেউ না দেখে।
৩. স্বামীর সঙ্গে সহ*বাসের সময়
এ সময় সম্পূর্ণ উ*ল*ঙ্গ হওয়া ইসলামে জায়েজ। এ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়
১. পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান
স্বামীর সামনে বৈধ হলেও, অন্য কারও সামনে উ*ল*ঙ্গ হওয়া হারাম।
এমনকি আত্মীয়-স্বজনের সামনেও সতর রক্ষা করা ফরজ।
২. গো*পন বিষয় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ
স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয় অন্যের কাছে বলা ইসলামে অপছন্দনীয় ও গুনাহের কাজ।
রাসূল(স) বলেছেনঃ
> “কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি সে, যে স্ত্রীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তার গো*পন বিষয় প্রকাশ করে।”
— সহীহ মুসলিম
৩. লজ্জাশীলতা ঈমানের অংশ
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ককে অনুমতি দিলেও অশ্লীলতা বা বেহায়াপনা সমর্থন করে না।
ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে উ*ল*ঙ্গ হওয়া বৈধ এবং এতে গুনাহ নেই, যদি তা বৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে ও গোপনীয়তার সাথে হয়। তবে পর্দা, লজ্জাশীলতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান দান করুন। আমীন।
