হিল্লা বিয়ে নিয়ে আমাদের সমাজে অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। আপনার প্রশ্নের উত্তরটি ধর্মীয় এবং আইনি—উভয় দিক থেকেই পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
ইসলামি শরিয়তের ব্যাখ্যা
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, কোনো দম্পতি যদি চূড়ান্তভাবে (তিন তালাক) বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তারা আবার একে অপরের সাথে সংসার করতে চায়, তবে সেক্ষেত্রে ‘হিল্লা’ বা ‘তাহলিল’ বিয়ের বিষয়টি আসে। তবে এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে:
* স্বাভাবিক বিয়ে: এই দ্বিতীয় বিয়েটি হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার নিয়তে। এটি কোনো চুক্তিভিত্তিক বা সাময়িক বিয়ে হতে পারবে না।
* সহবাসের শর্ত: শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি পুনরায় তার প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চান, তবে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তার বিয়েটি কেবল কাগজে-কলমে হলে হবে না। সেই বিয়েতে অবশ্যই দাম্পত্য মিলন (সহবাস) সংঘটিত হতে হবে। এটি ছাড়া ওই নারী প্রথম স্বামীর জন্য পুনরায় হালাল বা বৈধ হন না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা (চুক্তিভিত্তিক বিয়ে)
আমাদের সমাজে অনেক সময় “এক রাতের জন্য বিয়ে” বা নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তিতে যে হিল্লা বিয়ে করানো হয়, ইসলামে তা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অভিশপ্ত কাজ।
* রাসূল (সা.) সেই ব্যক্তির ওপর লানত বা অভিশাপ দিয়েছেন যে হিল্লা করে দেয় এবং যার জন্য হিল্লা করা হয়।
* যদি কেউ আগে থেকেই চুক্তি করে নেয় যে, “সহবাসের পর তালাক দিয়ে দেব”—তবে সেই বিয়েটিই বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১) অনুযায়ী, হিল্লা বিয়ের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ, যদি কোনো দম্পতির মধ্যে তালাক হয় এবং তারা আবার মিলে যেতে চায়, তবে তারা সরাসরি পুনরায় নতুন করে বিয়ে (নিকাহ) করতে পারে। দেশের আইনে হিল্লা বিয়েকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক হিল্লা বিয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
সারকথা: শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী প্রথম স্বামীর কাছে ফিরতে হলে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শারীরিক মিলন শর্ত, কিন্তু সেই বিয়েটি কোনোভাবেই “চুক্তিভিত্তিক” বা “সাজানো” হতে পারবে না। সেটি হতে হবে একটি স্বাভাবিক পূর্ণাঙ্গ বিয়ে।
